ফ্রিজ কিনে লাখপতি গাজীপুরের দর্জি ওয়াজেদ

১৬ জুন, ২০২০ ২০:৪০  
একেতো দারিদ্রতা। তারপর দুর্ঘটনায় এক চোখ হারিয়েছেন। অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছেন একটা ফ্রিজ কিনবেন বলে। করোনা দুর্যোগের সময় সেই ফ্রিজটি কিনেই ভাগ্য বদলে ফেললেন তিনি। পেশায় দর্জি ওই যুবকের নাম ওয়াজেদ আলী। গত ১০ জুন কালিয়াকৈরের পশ্চিম চন্দ্রায় ওয়ালটনের শোরুম ‘হাজি ইলেকট্রনিক্স’ থেকে ২১৮ লিটারের একটি ফ্রিজ কেনেন ওয়াজেদ। এরপর ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করেন নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে ওয়ালটন থেকে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার মেসেজ যায় তার মোবাইলে। যা দেখে আপ্লুত ওয়াজেদ। মাত্র ২৭ হাজার ৩০০ টাকায় ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে তিনি হয়ে গেলেন মিলিয়নিয়ার। জানালেন, দর্জির কাজ ছেড়ে গ্রামের বাড়ি গিয়ে ওই টাকায় একটি গরুর খামার দেবেন তিনি। ওয়াজেদ আলী জানান, তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকায়। ৬ বছর বয়সে এক দুর্ঘটনায় ডান চোখ নষ্ট হয়ে যায় তার। পড়াশোনারও সুযোগ হয়নি। ঢাকায় এসে নানান জায়গায় কাজ করেন। পরে ২০০১ সাল থেকে করছেন দর্জির কাজ। গাজীপুরের দক্ষিণ পানিশাইলে ছোট একটি দোকান রয়েছে তার। স্ত্রী গার্মেন্টসকর্মী। দুই সন্তান নিয়ে চার সদস্যের পরিবার তার। অনেকদিন ধরে একটি ফ্রিজ কেনার ইচ্ছা ছিলো। স্ত্রীর বেতন এবং অল্প অল্প করে নিজের জমানো টাকা দিয়ে ফ্রিজটি কেনেন ওয়াজেদ। ওয়ালটন থেকে কেনা ওই ফ্রিজেই ভাগ্য বদলে গেলো তার। ওয়ালটন ফ্রিজের প্রোডাক্ট ম্যানেজার শহীদুজ্জামান রানা জানান, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন সেভেন-এর প্রথম মিলিয়নিয়ার ওয়াজেদ। অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এ ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে ওয়ালটন। ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে ক্রেতার নাম, মোবাইল ফোন নম্বর এবং বিক্রি করা পণ্যের মডেল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য ওয়ালটনের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে, ওয়ারেন্টি কার্ড হারিয়ে ফেললেও দেশের যেকোনো ওয়ালটন সার্ভিস সেন্টার থেকে দ্রুত কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন গ্রাহক। সার্ভিস সেন্টারের প্রতিনিধিরাও গ্রাহকের ফিডব্যাক জানতে পারছেন। ৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এ সুযোগ থাকছে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত।